একদা রেনুকার এক অপরাধের দন্ড দিতে গিয়ে ঋষি জমদগ্নি, পুত্র পরশুরামকে মাতৃ হত্যার আদেশ করেন । মহামুনি ভৃগুর প্রপৌত্র পরশুরাম দ্বিধাগ্রস্ত মনে, কম্পিত হৃদয়ে, শঙ্কিত চিত্তে, কুঠার সহযোগে পিতৃ আজ্ঞা সম্পন্ন করেন। কিন্তু মাতৃ হত্যা জনিত পাপে তার হাতে কুঠার লেগে থাকে। এর উপায় সরূপ ঋষি জমদগ্নি পুত্রকে উপদেশ দিলেন তীর্থ পরিভ্রমনের। তিনি বললেন, যে তীর্থে গমনে বা স্নানে তোমার হাতের কুঠার স্খলন হবে, জানবে ঐ পুণ্যস্থান পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ তীর্থক্ষেত্র। তীর্থ পরিভ্রমন করতে করতে পরশুরাম হিমালয়ের ব্রহ্মকুন্ডে অবগাহন করার সাথে সাথে তার হাতে লেগে থাকা কুঠারখানা স্খলিত হয়, এবং তিনি সর্ববিধ পাপ থেকে অব্যাহতি লাভ করলেন। তিনি মনে মনে স্থির করলেন এই পুণ্য জলধারা সর্বসাধারনের সহজ লভ্য করার জন্য প্রবাহিত করে নিয়ে যাবেন। তখন তিনি হাল দিয়ে ব্রহ্মকুন্ডের জল ধারাকে হিমালয় থেকে সমভূমিতে নিয়ে আসেন এবং বর্তমানের নারায়গঞ্জ জেলায় এসে কর্ষন বন্ধ করেন। পরবর্তিতে সে স্থানের নাম হয় লাঙ্গলবন্দ।
মহাভারতের পৌরাণিক কাহিনী মতে পঞ্চপান্ডব বনবাসকালে এস্থানে এসেছিলেন। তাঁরা যেখানে স্থানাদিকার্য করেছিলেন সেস্থান পঞ্চমী ঘাট নামে পরিচিত।
নেপালের মহারাজা যে ঘাটে স্নানকৃত্য সমাপন করেছিলেন সেটি রাজঘাট নামে পরিচিত।
মাহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর পর তাঁর চিতাভস্ম ভারতের বিভিন্ন স্থানে ও তীর্থে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ব্রহ্মপুত্রের যে ঘাটে তাঁর চিতাভস্ম বিসর্জন দেয়া হয়েছে সে ঘাটের নাম গান্ধী ঘাট।
অষ্টমী স্নানোপলক্ষে লাঙ্গলবন্দে শত-সহস্র পুণ্যার্থী আসেন তেমনি অর্ধ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানেরও আগমন হয়। সমস্ত অঞ্চলজুড়ে মেলা বসে। আগমন ঘটে অসংখ্য সাধু সন্ন্যাসীর।
ব্রহ্মপুত্র স্নানের সংকল্প মন্ত্রঃ
বিষ্ণুরোম তৎসদদ্য চৈত্রে মাসি মীন রাশিস্থে ভাস্করে শুক্লপক্ষে আশোকাষ্টম্যাংতিথৌ অমুক গোত্রঃ (নিজ গোত্র) শ্রী অমুকঃ (নিজ নাম) জ্ঞানাজ্ঞানকৃত সর্বপাপক্ষয়পূর্বক সর্বতীর্থ স্নানজন্য ফলসমফলপ্রাপ্তিকমঃ অস্মিন ব্রহ্মপুত্রে স্নানমহং করিষ্যে।
No comments:
Post a Comment